পদিপিসির বর্মী বাক্স | লীলা মজুমদার | পদিপিসীর বর্মীবাক্স উপন্যাস | Podi Pishir Barmi Baksho eBook | Podi Pishir Barmi Baksho Pdf | পদিপিসীর বর্মীবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই |
এই ব্লগে আপনি পাবেন পদিপিসির বর্মিবাক্স উপন্যাসটি। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অনুরোধ রইল আশা করছি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগবে।আপনাদের সুবিধার্থে পিডিএফ এর লিঙ্ক নিচে দেওয়া আছে।
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
পদিপিসীর বর্মিবাক্স
লীলা মজুমদার
০১.
পাঁচুমামার প্যাঁকাটির মতন হাত ধরে টেনে ওকে ট্রেনে তুলোম। শূন্যে খানিক হাত-পা ছুঁড়ে, ও বাবাগো মাগো বলে চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে শেষে পাঁচুমামা খচমচ করে বেঞ্চিতে উঠে বসল। তার পর পকেট থেকে লাল রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছে ফেলে, খুব ভালো করে নিজের হাত-পা পরীক্ষা করে দেখল কোথাও ছড়ে গেছে কি না ও আয়োডিন দেওয়া দরকার কি না। তার পর কিছু না পেয়ে দুবার নাক টেনে, পকেটে হাত পুরে, খুদে-খুদে পা দুটো সামনের বেঞ্চিতে তুলে দিয়ে আমার দিকে চেয়ে চিঁচি করে বলল, “ছোটবেলায় একবার ভুলে বাদশাহি জোলাপ খেয়ে অবধি শরীরটা আমার একদম গেছে, কিন্তু বুকে আমার সিংহের মতন সাহস তা নইলে পদিপিসীর বর্মিবাক্স খোঁজার ব্যাপারে হাত দেব কেন?” বলে ভুরু দুটো কপালে তুলে চোখ দুটো জিজ্ঞাসার চিহ্ন বাজিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি তো অবাক।
কোনার বেঞ্চিতে যে চিমড়ে ভদ্রলোক ছেলেপুলে বাক্সপ্যাটরা ও মোটা গিন্নি নিয়ে বসে-বসে আমাদের কথা শুনছিলেন, তিনিও অবাক। পাঁচুমামা বলল, “একশো বছর পরে পদিপিসীর বর্মিবাক্স আমি আবিষ্কার করব। জানিস, তাতে এক-একটা পান্না আছে এক-একটা মোরগের ডিমের মতন, চুনী আছে এক-একটা পায়রার ডিমের মতন, মুক্তা আছে হাঁসের ডিমের মতন! মুঠো-মুঠো হীরে আছে, গোছাগোছা মোহর আছে। তার জন্য শত-শত লোক মারা গেছে, রক্তের সালওয়েন নদী বয়ে গেছে, পাপের উপর পাপ চেপে পর্বত তৈরি হয়েছে–সব আমি একা উদ্ধার করব।”
তখন আমার ভারি রাগ হল। বললাম, “তুমি ইঁদুর ভয় পাও, গোরু দেখলে তোমার হাটু বেঁকে যায়, তুমি কী করে উদ্ধার করবে?”
পাঁচুমামা বলল, “আমার মনের ভিতর যে সিংহ গর্জন করছে।” বলে একদম চুপ মেরে গেল। আমি পাঁচুমামাকে একটা ছাঁচি পান দিলাম, এক বোতল লেমোনেড় খাওয়ালাম, খাবারওয়ালাকে ডেকে মস্ত শালপাতার ঠোঙা করে লুচি, আলুর দম, কপির সিঙাড়া, খাজা আর রসগোল্লা কিনে ওর হাতে গুঁজে দিলাম। বললাম, “ও পাঁচুমামা, পদিপিসীর বর্মিবাক্সটা কোথায় আছে?” পাঁচুমামা আমার এত কাছে ঘেঁষে এল যে তার কনুইটা আমার কোঁকে ফুটতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে পাঁচুমামার ভুরুর প্রত্যেকটা লোম খাড়া হয়ে দুটো শুয়োপোকার মতন দেখাতে লাগল। ওর মাথাটা ঝুলে আমার এত কাছে এসে গেল যে ঐ শুয়োপোকার সুড়সুড়ি আমার কপালে লাগল। পাঁচুমামা নিচু গলায় কথা বলতে লাগল, আর আমি তাই শুনতে-শুনতে টের পেলাম চিম্ড়ে ভদ্রলোক কখন জানি ওঁর নিজের বেঞ্চি ছেড়ে পাঁচুমামার ওপাশে ঘেষে হা করে কথা শুনছেন, তার চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেছে আর গলার মধ্যিখানে একটা গুটুলি মতন ওঠানামা করছে। তাই দেখে আর পাঁচুমামার কথা শুনে আমার সারা গা সিরসির করতে লাগল।
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
০২.
পাঁচুমামা বলতে লাগল, “দেখ, মামাবাড়ি তো যাচ্ছিস। সেখানকার গোপন সব লোমহর্ষণ কাহিনীগুলো তোর জানা দরকার এ কথা কখনো ভেবে দেখেছিস? পদিপিসীর নাম ইতিহাসে রক্তের অক্ষরে লেখা থাকতে পারত তা জানিস? ঠাকুরদার পদিপিসী, অদ্ভুক্ত রাঁধতে পারতেন। একবার ঘাস দিয়ে এইসা চচ্চড়ি বেঁধেছিলেন যে বড়লাট সাহেব একেবারে থ! বলেছিলেন, এই খেয়েই তোমলোককো দেশকো এইসা দশা! থাক গে সে কথা! অদ্ভুত রাঁধুনি ছিলেন পদিপিসী। বেঁটেখাটো বিধবা মানুষ, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, আর মনে জিলিপির প্যাঁচা সিংহের মতন তেজও ছিল তার, হাজার হোক, এক দিক দিয়ে দেখতে গেলে আমি তো তারই বংশধর। বুঝলি, ঐ পদিপিসী গোরুর গাড়ি চড়ে, মাঘীপূর্ণিমার রাতে বালাপোশ গাঁয়ে, নিমাইখুড়োর বাড়ি চলেছেন বত্রিশবিঘার ঘন শালবনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন আর মনে-মনে ভাবছেন নিমাইখুড়োর ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত, জঙ্গলে একা থাকেন, মেলা সাঙ্গোপাঙ্গ চেলা নিয়ে, কপালে চন্দন সিঁদুর দিয়ে চিত্তির করা, কথায় কথায় ভগবানের নাম। অথচ এদিকে মনে হয় দেদার টাকা, দানটানও করেন, জিজ্ঞেস করলে বলেন–সবই ভগবানের দয়া! এত লোক থাকতে ভগবান যে কেন ওকেই দয়া করতে যাবেন সেও একটা কথা।
“এই-সব ভাবছেন হঠাৎ হৈ-হৈ রৈরৈ করে একদল লাল লুঙ্গিপরা, লাল পাগড়ি বাঁধা, লাল চোখওয়ালা ডাকাতপানা লোক একেবারে গোরুর গাড়ি ঘেরাও করে ফেললে! নিমেষের মধ্যে গোরু দুটো গাড়ি থেকে খুলে নিল, আর পদিপিসীর সঙ্গে রমাকান্ত ছিল, তাকে তো টেনেহিঁচড়ে গোরুর গাড়ি থেকে বার করে তার ট্যাক থেকে সাড়ে সাতআনা পয়সা আর নস্যির কৌটো কেড়ে নিলে। পদিপিসী থান পরা, রুদ্রাক্ষের মালা গলায়, কোমরে কাপড় জড়িয়ে আর তার উপর দুই হাত দিয়ে রাস্তার মাঝখানে এমন করে দাঁড়ালেন যে ভয়ে কেউ তার কাছে এগুলো না। শেষটা তিনি হাঁক দিয়ে বললেন, “ওরে বাটপাড়েরা, গাড়োয়ান, রমাকান্ত সবাইকে তো আধমরা করে ফেললি, গোরুগুলোরও কিছু বাকি রেখেছিস কি না জানি না। এবার তোরাই আমাকে নিমাইখুড়োর বাড়ি কাঁধে করে পৌঁছে দে! তাই-না শুনে ডাকাতরা জিভ-টিভ কেটে, পদিপিসীর পায়ে একেবারে কেঁদে পড়ে বলল, “নিমাইসর্দার যদি জানতে পারে তার কুটুমকে এরা ধরেছিল– নিমাইসর্দার এদের প্রত্যেকের ছাল ছাড়িয়ে নেবে, হাউমাউ!’ তখন তারা ফের গোরু জুতে, পয়সা ফিরিয়ে, রমাকান্তর গায়ে হাত বুলিয়ে, গাড়োয়ানকে নগদ চারটে পয়সা ঘুষ দিয়ে, নিজেরাই নিমাইখুড়োর বাড়ির পথ দেখিয়ে দিয়েছিল।
“পদিপিসীও নিমাইখুড়োর কথা জানতে পেরে মহাখুশি!”
পাঁচুমামা ঢোক গিলে চোখ গোল করে আরো কত কি বলল। “পদিপিসীর ভীষণ বুদ্ধি, ধাঁ করে টের পেয়ে গেলেন খুড়োই ডাকাতদলের সর্দার। পদিপিসী খুড়োর বাড়ি দুপুর রাতে পৌঁছেই খুড়োর চোখের ওপর চোখ রেখে, দাঁতে-দাঁত ঘষে বললেন–”শালবনে আমাকে ডাকাতে ধরেছিল, তাড়াতাড়ি গোরুর গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে আমার তসরের চাদর খানিকটা ছিঁড়ে গেছে, পায়ের বুড়ো আঙুলে হোঁচট লেগেছে, আর তা ছাড়া মনেও খুব একটা ধাক্কা লেগেছে। এর কী প্রতিশোধ নেব এখনো ঠিক করি নি। এখন রান্না করব, খাব, তার পর পান মুখে দিয়ে শুয়ে শুয়ে ভেবে দেখব।”
“খুড়োর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল, হাত থেকে রুপোবাঁধানো গড়গড়ার নলটা মাটিতে পড়ে গেল; খুড়োমশাই বিদ্যাসাগরী চটি পায়ে তারই উপর একটু কাত হয়ে দাঁড়িয়ে গোফ নাড়তে লাগলেন, মুখ দিয়ে কথা বেরোল না! পদিপিসী তাই দেখে প্রসন্ন হয়ে বললেন–”আমার মধ্যে যে-সব সন্দেহরা ঝাঁক বেঁধে অন্ধকার বানিয়ে রেখেছে, তারা যাতে মনের মধ্যেই থেকে যায়, বাইরে প্রকাশ পেয়ে তোমার অনিষ্ট ঘটায়, তার ব্যবস্থা অবিশ্যি তোমার হাতে’ বলে চাদরটা চৌকির উপর রেখে কুঁজো থেকে খাবার জল নিয়ে পা ধুলেন। তার পর রান্নাঘরে গিয়ে খুড়িকে ঠেলে বের করে দিয়ে মনের সুখে গাওয়া ঘি দিয়ে নিজের মতন চারটি ঘিভাত রাঁধতে বসে গেলেন। খুড়োও আস্তে-আস্তে সেইখানে উপস্থিত হয়ে বললেন-–”তোমায় পঞ্চাশ টাকা দেব যদি ডাকাতের কথা কাউকে না বল।”
“পদিপিসী একমনে রাঁধতে লাগলেন। “খুড়ো বললেন—’একশো টাকা দেব।‘ পদিপসী একটু হাসলেন। খুড়ো বললেন–”পাঁচশো টাকা দেব। পদিপিসী একটু কাশলেন। খুড়ো মরীয়া হয়ে বললেন-”হাজার টাকা দেব, পাঁচ হাজার টাকা দেব, আমার লোহার সিন্দুক খুলে দেব, যা খুশি নিয়ো। পদিপিসী খুন্তিকড়া নামিয়ে রেখে সোজা সিন্দুকের সামনে উপস্থিত হলেন। খুড়ো সিন্দুক খুলতেই হীরে-জহরতের আলোয় পদিপিসীর চোখ ঝলসে গেল। খুড়ো ভেবেছিলেন সেইসঙ্গে পদিপিসীর মাথাও ঘুরে যাবে, কী নেবে না-নেবে কিছু ঠাহর করতে পারবে না। কিন্তু পদিপিসী সে মেয়েই নয়। তিনি অবাক হয়ে গালে আঙুল দিয়ে ঝুঁকে পড়ে বললেন–”ওমা, এ যে আলাদিনের ভাড়ার ঘর। ব্যাটা ঠ্যাঙাড়ে বাটপাড়, কি দাঁওটাই মেরেছিস!” বলে দু হাতে জড়ো করে একটিপি ধনরত্ন মাটিতে নামালেন। আর একটা হাঙরের নকশা-আঁকা লাল বর্মিবাক্সও টেনে নামালেন। খুড়ো হাঁ-হাঁ করে ছুটে এসে বললেন– “আহা, ওটা থাক, ওটাতে যে আমার সব প্রাইভেট পেপার আছে!”
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
৩.
“পদিপিসী থপ করে মাটিতে থেবড়ে বসে বললেন-–‘চোপরাও শালা। নয়তো সব প্রাইভেট ব্যাপার। খবরের কাগজে ছেপে দেবা’ বলে কাগজপত্র বের করে ফেলে দিয়ে, ঐ-সব ধনরত্ন বর্মিবাক্সে ভরে নিয়ে, আবার রান্নাঘরে গিয়ে জলচৌকিতে বসে কড়াটা উনুনে চাপালেন। সারারাত ঘুমলেন না, বাক্স আগলে জেগে রইলেন, ভোর না-হতেই আবার গোরুর গাড়ি চেপে শালবনের মধ্যে দিয়ে লাল আলোয়ান গায়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন।”
পাঁচুমামা এবার থামল। আর আমি মাথা বাগিয়ে জিগগেস করলাম–”তারপর?” এবং সেই চিম্ড়ে ভদ্রলোকও নিশ্বাস বন্ধ করে বললেন–”তারপর? তারপর?” পাঁচুমামা বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনার কী মশাই?” ভদ্রলোক অপ্রস্তুতপানা মুখ করে বললেন– “না, না– গল্পটা বড় লোমহর্ষণ কিনা–”
পাঁচুমামা আরো কি বলতে যাচ্ছিল, আমি হঠাৎ ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকিয়ে ইংরজিতে বললাম–”চুপ, চোখ ইজ জ্বলজ্বলিং।” পাঁচুমামা তাঁকে কিছু না বলে আবার বলতে লাগল–”এত কষ্ট করে পাওয়া বর্মিবাক্স নিয়ে পদিপিসী সারাদিন গোরুর গাড়ি চেপে বাড়িমুখো চলতে লাগলেন। দুপুরে সজনে গাছতলায় গাড়ি থামিয়ে খিচুড়ি আর সজনে ফুল ভাজা খাওয়া হল, তার পর আবার’গাড়ি চলল। এমনি করে রাত দশটা নাগাদ পদিপিসী বাড়ি পৌঁছুলেন। কেউ মনেই করে নি পিসী এত শিগগির ফিরবেন, সবাই অবাক। সবাই বেরিয়ে এসে পদিপিসীকে আর জিনিসপত্র পোটলা-পাটলি টেনে নামাল। তার পর গোলমাল, চ্যাঁচামেচি, ডাকাতের গল্প, অবিশ্যি ডাকাতের সঙ্গে খুড়োর যোগের কথা পদিপিসী ছাড়া কেউ সন্দেহও করে নি, পদিপিসীও চেপে গেলেন। হঠাৎ বাক্সটার কথা মনে পড়তে বগল থেকে সেটাকে টেনে বের করে দেখেন, যেটাকে বর্মিবাক্স বলে সযত্নে গাড়ি থেকে-নামিয়েছিলেন সেটা আসলে পানের ডিবে। বমিবাক্স পাওয়া যাচ্ছে না।”
পাঁচুমামা চোখ গোল করে চুল খাঁড়া করে চিঁচিঁ করে বলতে লাগল আর আমি আর সেই চিম্ড়ে ভদ্রলোক নিশ্বাস বন্ধ করে শুনতে লাগলাম। “সে বাক্স একেবারে হাওয়া হয়ে গেল। সেই রাতদুপুরে পদিপিসী এমন চ্যাঁচামেচি শুরু করলেন যে বাড়িসুদ্ধ সবাই যে যেখান থেকে পারে মশাল, মোমবাতি, লণ্ঠন, তেলের পিদিম জ্বেলে নিয়ে এসে এ ওর পা মাড়িয়ে দিয়ে মহা খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিল। তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পদিপিসী নিজে হাত-পা ছুঁড়ে চেঁচিয়ে-মেচিয়ে কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে দিলেন। বললেন, ‘নেই বললেই হল! এই আমার বগলদাবী করা ছিল, আর এই তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। একটা আধহাত লম্বা শক্ত কাঠের বাক্স একেবারে কর্পূরের মতন উড়ে গেল। একি মগের মুল্লুক?
“বলে গোরু খুলিয়ে, গোরুর গাড়ির ছাউনি তুলিয়ে, বাঁশের বাঁধন আলগা করিয়ে, গাড়োয়ানের দুহাতি ধুতি ঝাড়িয়ে আর রমাকান্তকে দস্তুর মতো সার্চ করিয়ে এমন এক কাণ্ড বাঁধালেন যে তার আর বর্ণনা দেওয়া যায় না। শেষে যখন গোরু দুটোর ল্যাজের খাঁজে খুঁজতে গেছেন তখন গোরু দুটো ধৈর্য হারিয়ে পদিপিসীর হাঁটুতে এইসা গুতিয়ে দিল যে পদিপিসী তখুনি বাবাগো মাগো বলে বসে পড়লেন। কিন্তু বসে পড়লে কি হবে, বলেইছি তো সিংহের মতন তেজ ছিল তার, বসে-বসেই সারারাত বাড়িসুদ্ধ সবাইকে জাগিয়ে রাখলেন। কিন্তু সেবাক্স আর পাওয়াই গেল না। এতক্ষণ যারা খুঁজছিল তারা কেউ বাক্সে কী আছে না-জেনেই খুঁজছিল। এবার পদিপিসী কেঁদে ফেলে সব ফাঁস করে দিলেন। বললেন, “নিমাইখুড়ো আমাকে দেখে খুশি হয়ে ঐ বাক্স ভরে কত হীরে-মোতি দিয়েছিল, আর সে তোরা কোথায় হারিয়ে ফেললি।” তাই-না শুনে যারা খুঁজে-খুঁজে হয়রান হয়ে বসে পড়েছিল, তারা আবার উঠে খুঁজতে শুরু করে দিল। শুনেছি তিন দিন তিন রাত ধরে মামাবাড়িসুদ্ধ
কেউ খায়ও নি ঘুমোয়ও নি। বাগান পর্যন্ত খুড়ে ফেলেছিল। যাদের মধ্যে বিষম ভালোবাসা ছিল তারাও পরস্পরকে: সন্দেহ করতে লেগেছিল।”
আমি আর সেই চিমড়ে ভদ্রলোক বললাম, “তার পর? তার পর?” পাঁচুমামা বলল, “তার পর আর কি হবে? এক সপ্তাহ সব ওলটপালট হয়ে রইল, খাওয়া নেই শোয়া নেই, কারু মুখে কথাটি নেই। সারা বাড়ি সবাই মিলে তোলপাড় করে ফেলল। কত যে রাশি-রাশি ধুলো, মাকড়সার জাল, ভাঙা শিশি-বোতল, তামাকের কৌটো বেরুল তার ঠিক নেই। কত পুরনো হলদে হয়ে যাওয়া চিঠি বেরুল; কত গোপন কথা জানাজানি হয়ে গেল; কত হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়া গেল। কিন্তু পদিপিসীর বর্মিবাক্স হাওয়ায় উড়ে গেল। এমন ভাবে হাওয়া হয়ে গেল যে শেষ অবধি অনেকে এ কথাও বলতে ছাড়ল না যে বাক্স-টাক্স সব পদিপিসীর কল্পনাতে ছাড়া আর কোথাও ছিল না। কেবলমাত্র রমাকান্ত বার বার বলতে লাগল–নিমাইখুড়োর বাড়ি থেকে পদিপিসী যে খালি হাতে ফেরেন নি এ কথা ঠিক গোরুর গাড়িতে আসবার সময়ে বাক্সটা চোখে না-দেখলেও পদিপিসীর আঁচল চাপা শক্ত চৌকো জিনিসের খোঁচা তার পেটে লাগছিল, এবং সেটা পানের বাটা নয় এও নিশ্চিত, কারণ পানের বাটার খোঁচা তার পিঠে লাগছিল।
“বাক্সের শোকে পদিপিসী আধখানা হয়ে গেলেন। অত হীরে-মোতি লোকে সারাজীবনে কল্পনার চোখেও দেখে না আর সে কিনা অমন করে কোলছাড়া হয়ে গেল! শোকটা একটু সামলে নিয়ে পদিপিসী আবার রমাকান্তকে নিয়ে নিমাইখুড়োর খোঁজে গেছিলেন যদি কিছু পাওয়া যায়। গিয়ে দেখেন বত্রিশবিঘার শালবনের মাঝখানে নিমাইখুড়োর আড্ডা ভেঙে গেছে, জনমানুষের সাড়া নেই, বুনো বেড়াল আর হুতুমপ্যাচার আস্তানা। “তার পর কত বছর কেটে গেল। বাক্সের কথা কেউ ভুলে গেল, কেউ আবছায়া মনে রাখল। একমাত্র পদিপিসীই মাঝে-মাঝে বাক্সের কথা তুলতেন। আরো বহু বছর বাদে পদিপিসী স্বর্গে গেলেন। যাবার আগে হঠাৎ ফিক করে হেসে বললেন, এই রে। বাক্সটা কী করেছিলাম এদিন পরে মনে পড়েছে। বলেই, চোখ বুজলেন। তাই শুনে পদিপিসীর শ্রাদ্ধের পর আর-এক চোট খোঁজাখুজি হয়েছিল কিন্তু কোনো ফল হয় নি।”
চিম্ড়ে ভদ্রলোক বললেন, “তারপর?”
পাঁচুমামা বলল, “সেই বাক্স আমি বের করব। কিন্তু আপনার তাতে কী মশাই?”
পাঁচুমামা এইখানে চিম্ড়ে ভদ্রলোকের দিকে একদৃষ্টে কটমট, করে চেয়ে থাকার ফলে চিমূড়ে ভদ্রলোক উঠে গিয়ে সুড় সুড় করে নিজের জায়গায় বসে নিবিষ্ট মনে দাঁত খুটিতে লাগলেন ইতিমধ্যে বেশ রাত হয়ে যাওয়াতে তার স্ত্রী-পুত্র পরিবার সবাই ঘুমিয়ে-টুমিয়ে পড়ে একেবারে স্তুপাকার হয়ে রয়েছে দেখা গেল।
আমি আশা করে বসেই আছি পাঁচুমামা লোমহর্ষণ আরো কিছু বলবে, কিন্তু পাঁচুমামা দেখলাম চটিটি খুলে ঘুমোবার জোগাড় করছে। তাই দেখে আমার কেমন অস্বস্তি বোধ হতে লাগল আর চিম্ড়ে ভদ্রলোক থাকতে না পেরে দাঁত খোটা বন্ধ করে জিজ্ঞেস করলেন, “একশো বছর ধরে যা এত খোঁজা সত্ত্বেও পাওয়া যায় নি, তাকে যে আবিষ্কার করবেন, কোনো পায়ের ছাপ বা আঙুলের ছাপ জাতীয় চিহ্নটিহ্ন কিছু পেয়েছেন?”
পাঁচুমামা বলল, “ঠিক পাই নি, তবে পেতে কতক্ষণ? পদিপিসীর শেষ কথায় তো মনে হয় যে চোখের সামনেই কোথাও আছে, চোখ ব্যবহার করলেই পাওয়া যাবে। লুকিয়ে রাখবার তো সময়ই পান নি। আর মনে পড়ে যখন হাসি পেয়েছিল তখন নিশ্চয় চোরেও নেয় নি। কিন্তু পাঁচশোবার বলছি মশাই আপনার তাতে কী?” চিম্ড়ে ভদ্রলোক কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা পর্যন্ত মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লেন।
সবাই শুয়ে পড়ল আর আমি একা জেগে অন্ধকার রাত্রের মধ্যে ঝোপেঝাড়ে হাজার-হাজার জোনাকি পোকার ঝিকিমিকি আর থেকেথেকে এঞ্জিনের ধোঁয়ার মধ্যে ছোট-ছোট আগুনের কুচি দেখতে লাগলাম। ক্রমে সে-সব আবছা হয়ে এল, আমার চোখের সামনে খালি দেখতে লাগলাম বড় সাইজের একটা বর্মিবাক্স, লালচে রঙের উপর কালো দিয়ে আঁকা বিকট হিংস্র এক মাছ প্যাটনের ড্রাগন, তার চোখ দিয়ে আগুনের হল্কা বেরুচ্ছে, নাক দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছে, জিভ লকলক করছে। আরো দেখতে পেলাম যেন বাক্সর চাকনিটা খোলা হয়েছে আর তার ভিতর পায়রার ডিমের মতন, মোরগের ডিমের মতন, হাঁসের ডিমের মতন, উটপাখির ডিমের মতন সব হীরেমণি আমার চোখ ঝলসে দিচ্ছে। হঠাৎ ঘচ করে ট্রেন থেমে গেল।
মামাবাড়ির স্টেশনে পৌঁছলাম গভীর রাতে স্টেশনের বেড়ার পেছনে কতকগুলো লম্বা-লম্বা শিশুগাছের পাতার মধ্যে একটা ঠাণ্ডা ঝোড়ো হাওয়া সিরসির করে বয়ে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মে জনমানুষ নেই। ছোট্ট স্টেশন বাড়ির কাঠের দরজার কাছে স্টেশনমাস্টার একটা কালো শেড় লাগানো লণ্ঠন নিয়ে হাই তুলছেন। পান খেয়েছেন অজস্র, আর বহুদিন দাড়ি কামান নি। একটা গাড়ি নেই, ঘোড়া নেই, গোরুর গাড়ি দূরে থাকুক, একটা বেড়াল পর্যন্ত কোথাও নেই।
আমি পাঁচুমামার দিকে তাকালাম; পাঁচুমামাও ফ্যাকাশে মুখ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি তখন আর সহ্য করতে না পেরে বললাম, “তুমি যে প্রায়ই বল আমরা এখানকার জমিদার, এরা তোমাদের প্রভুভক্ত প্ৰজা, এই কি তার নমুনা? আমি তো ভেবেছিলাম আলো জ্বলবে, বাদ্যি বাজবে, মালাচন্দন নিয়ে সব সারে সারে দাঁড়িয়ে থাকবে। তার পর আমরা চতুর্দোলায় চেপে মামাবাড়ি যাব। গিয়ে গরম-গরম–”
পাঁচুমামা এইখানে আমার খুব কাছে ঘেঁষে এসে কানে-কানে বলল, “চোপ ইডিয়ট! দেখছিস না চার দিক থেকে অন্ধকারের মতন বিপদ ঘনিয়ে আসছে? রক্তলোলুপ নিশাচররা যাদের পিছু নিয়েছে তাদের কি নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করা শোভা পায়?”
চমকে উঠে বক্ততা থামিয়ে অন্ধকারের মধ্যে দেখতে পেলাম একটা নিবুনিবু দু-সেলওয়ালা টর্চ জ্বেলে চিমড়ে ভদ্রলোক গাড়ি থেকে রাশিরাশি পোটলা-পাটলি ছেলেপুলে ও মোটা গিন্নিকে নামাচ্ছেন। তারা নামতে না-নামতেই গাড়িটাও ঘড়ঘড় করে চলে গেল, আর অন্ধকার লম্বা প্ল্যাটফর্ম জুড়ে কেমন একটা থমথমে ভাব বিরাজ করতে লাগল। তার মধ্যে শুনতে পেলাম পাঁচুমামা আমার ঘাড়ের কাছে ফোঁসফোঁস্
করে নিশ্বাস ফেলছে। এমন সময় অন্ধকার ভেদ করে কে চ্যাঁচাতে লাগল, “অ পাঁচুদাদা, অ মেজদিমণির খোকা। বলি এয়েচ না আস নি?” পাঁচুমামার যেন ধড়ে প্রাণ এল, খচমচ, করে ছুটে গিয়ে বলল, “ঘনশ্যাম এলি! আঃ বাঁচালি!”
ঘনশ্যাম কিন্তু পাঁচুমামার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল, “ঘ্যানঘ্যান ভালো লাগে না পাঁচুদাদা। এ দিকে বড় গোরু তো আসনসিঁড়ি হয়ে বসে পড়েছেন, কত টানাটানি করলাম, কত কাকুতিমিনতি করলাম, কত ল্যাজ মোচুড়ালাম। শেষ অবধি গাড়ির বাঁশ খুলে নিয়ে পেটের নীচে চাড় দিয়ে পর্যন্ত ওঠাতে চেষ্টা করলাম। সে কিন্তু নড়েও না, ঐরকম বসে ঘাস চাবায়।”
পাঁচুমামা বলল, “অ্যা ঘনশ্যাম। তবে কী হবে?”
ঘনশ্যাম বলল, “হবে আবার কী? চল দেখবে চলা”
আমরা সেই ঘুটঘুঁটে অন্ধকারে কাঁকর-বেছানো প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে গেটের মধ্যে দিয়ে ওদিকে ধুলোমাখা রাস্তায় এসে পড়লাম। সেইখানে দেখি রাস্তার ধারে একটা গোরুর গাড়ি তার একটা গোরু পা গুটিয়ে: মাটিতে বসে-বসে দিব্যি ঘুমুচ্ছে, অন্য গোরুটা তার দিকে হতাশভাবে তাকিয়ে জাবর কাটছে।
সত্যি-সত্যি সে গোরু কিছুতেই উঠল না। তখন ঘনশ্যাম পাঁচুমামাকে আর আমাকে জিনিসপত্রসুদ্ধ গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে সেই গোরুটার জায়গায় নিজেই গাড়ি টানতে শুরু করে দিল। গাড়ি আমনি চলতে লাগল।
স্টেশন ছাড়িয়েই ডানহাতে পুরনো গোরস্থান। সেখানটাতে আবার মস্ত-মস্ত বুলো-ঝুলো পাতাওয়ালা উইলোগাছ জমাট অন্ধকার করে রয়েছে। সেখানে পৌঁছতেই পাঁচুমামা ফিসফিস করে আমাকে ইংরিজিতে বলল, “এখানে সব সিপাই বিদ্রোহের সময়কার কবর আছে।” অমনি ঘনশ্যাম গাড়ি থামিয়ে মাথা ঘুরিয়ে বলল, “ইংরিজিতে সব ভূতের গল্প বললে ভালো হবে না পাঁচুদাদা। এইখানেই গাড়ি নামিয়ে চম্পট দেব বলে রাখলাম।”
পাঁচুমামা ব্যস্ত হয়ে বলল, “আরে ভূতের গল্প নয় রে ঘনশ্যাম। কবরের কথা বলছিলাম।” ঘনশ্যাম আরো বিরক্ত হয়ে বলল, “ভূতের কথা নয় মানে? কবর, আর ভূত কি আলাদা? ইংরিজি জানি না বলে কি তোমাদের চালাকিগুলোও ধরতে পারব না নাকি! না পাঁচুদা, আমার পোষাবে না” বলেই ঘনশ্যাম গাড়িটা দুম্ করে ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়াল।
এমন সময় খটখট,-খটাখট শব্দ করে একটা ছ্যাকড়া গাড়ি এসে উপস্থিতা আমাদের পাশ দিয়ে যাবার সময় জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম সাদা ফ্যাকাশে মুখ করে চিম্ড়ে ভদ্রলোক জ্বলজ্বলে চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।
পাঁচুমামা তথুনি হাত-পা ছুঁড়ে মূৰ্ছা গেল। ঘনশ্যাম বললে, “ইয়ার্কি ভালো লাগে না পাঁচুদাদা।” বলে আবার গাড়ি টানতে শুরু করল। পাঁচুমামাও রুমাল দিয়ে মুখ মুছে উঠে বসল। অনেক রাতে মামাবাড়ি পৌঁছলাম। মনে পড়ল পদিপিসীও এমনি দুপুর রাতে রমাকান্তকে নিয়ে নিমাইখুড়োর বাড়ি থেকে ফিরেছিলেন। সত্যি, বর্মিবাক্সটা গেল কোথায়? পাঁচুমামাকে জিজ্ঞেস করলাম, “হাত থেকে পড়ে-উড়ে যায় নি তো?”
পাঁচুমামা দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “সস চুপ, এটা শক্রর আস্তানা। বুক থেকে হৎপিণ্ড উভড়ে নিলেও পদিপিসীর বর্মিবাক্সর নাম মুখে আনবি না।”
গাড়িবারান্দার নীচে গোরুর গাড়ি নামিয়ে ঘনশ্যাম সিঁড়ির উপর বসে পড়ল। ঘরের মধ্যে থেকে প্যাঁচা, ফিঙে, নটবর, খেন্তি, পেঁচী, ইত্যাদিরা সব বেরিয়ে এল মজা দেখবার জন্যে। কিন্তু গাড়ি থেকে লটবহর নামাতে কেউ সাহায্যও করল না। পাঁচুমামাও নেমেই কোথায় জানি চলে গেল। শেষ অবধি আমি মনে-মনে ভারি রেগে জিনিসপত্র দুমদাম করে মাটিতে ফেলতে লাগলাম। সেই দুমদাম শুনে দিদিমা বেরিয়ে এসে আমাকে চুমুটুমু খেয়ে একাকার। দিদিমা আমাকে সেজ-দাদামশাইয়ের কাছে নিয়ে গেলেন।
দেখলাম সেজ-দাদামশাই ইয়া শিঙ-বাগানো গোফ, হিংস্র চোখ, দিব্যি টেরিকাটা চুল নিয়ে ইজিচেয়ারে বালাপোশ গায়ে দিয়ে শুয়ে আছেন। বুকের ভিতর ধক করে টের পেলাম শক্র নম্বর ওয়ান! সেজ-দাদামশাইকে প্রণাম করতেই একটু মুচকি হেসে আমাকে মাথা থেকে পা অবধি দেখে নিয়ে বললেন, “হুঁ।“
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
০৪.
ভীষণ রাগ হল। রেগেমেগে দিদিমার সঙ্গে খাবার ঘরে গিয়ে আমার দাদামশাই যে বড় পিঁড়িতে বসতেন তাতে আসন হয়ে বসে লুচি, বেগুনভাজা, ছোলার ডাল, ফুলকপির-ডালনা, চিংড়িমাছের মালাইকারি, চালতার অম্বল, রসগোল্লার পায়েস, এক নিশ্বেসে সমস্ত রাশি-রাশি পরিমাণে খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষ হলে দেখলাম পাঁচুমামাও কোন সময় আমার পাশে বসে খুঁটে খুঁটে খেতে শুরু করে দিয়েছে।
দু-একবার তাকালাম। পাঁচুমামার ভাবখানা যেন আমায় চেনেই না। তখন আমার ভারি দুঃখ হল। পাঁচুমামাও অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। কিন্তু হাত ধোবার সময় কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস্ করে বলল,
“দুজনে বেশি ভাব দেখালে মতলব ফেঁসে যাবে। ওল্ড লেডি নম্বর ওয়ান স্পাই।” আমি একটু আপত্তি করতে গেলাম, কারণ দিদিমাকে আমার ভালো লাগছিল।
পাঁচুমামা বলল, “চোপ, আমার খুড়ি আমি চিনি না।”
পুরনো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে, হাতে মোমবাতি নিয়ে দিদিমার সঙ্গে সঙ্গে দোতলায় বিশাল এক শোবার ঘরে শুতে গেলাম। কতরকম কারুকার্য করা ভীষণ প্রকাণ্ড আর ভীষণ উঁচু এক খাটে শুলাম। সেটা এমনি উঁচু যে সত্যিকারের কাঠের সিঁড়ি বেয়ে তাতে উঠলাম। খাটের উপর আবার দু-তিনটে বিশাল-বিশাল পাশবালিশ। আর খাটের নীচে মস্ত-মস্ত কাঁসা-পেতলের কলসি-টলসি কি সব দেখতে পেলাম। দিদিমা একটা রঙচঙে জলচৌকির উপর মোমবাতিটা নামিয়ে রেখে আমাকে বেশ ভালো করে ঢাকা দিয়ে, মুখে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “আজ টপ করে ঘুমিয়ে পড় তো মানিক। আমি খেয়ে এসে তোমার পাশে শোব। কাল তোমাকে পদিপিসীর বর্মিবক্সর গল্প বলব। একা শুয়ে থাকতে ভয় পাবে না তো?” পদিপিসীর নাম শুনে আমার বুক ঢিপটিপ করতে লাগল। মুখে বললাম, “আলোটা রেখে যাও, তা হলে কিছু ভয় পাব না।” দিদিমা আদর করে চলে গেলেন। পাঁচুমামা কেন বলল স্পাই নম্বর ওয়ান!
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না, যখন ঘুম ভাঙল দেখি ভোর হয়ে গেছে। দিদিমা কখন উঠে গেছেন। আমিও খচমচ করে খাট থেকে নেমে আস্তে-আস্তে গিয়ে ঘরের সামনের বাড়ান্দায় দাঁড়ালাম। দেখি ফুলবাগান থেকে, আর তার পেছনে আমবাগান থেকে কুয়াশা উঠছে। ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। সেইজনেই হোক, কিংবা আমগাছতলায় যা দেখলাম সেইজন্যেই হোক, আমার সারা গা সিরসির করে উঠল। দেখলাম ছাইরঙের পেন্টেলুন আর ছাইরঙের গলাবন্ধ কোট পরে মুখে মাথায কম্ফটার জড়িয়ে চিম্ড়ে ভদ্রলোক চোখে বাইনাকুলার লাগিয়ে একদৃষ্টে বাড়ির দিকে চেয়ে রয়েছেন। তাই-না দেখে আমার টনসিল ফুলে কলাগাছ।
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
Releted Topic:
১। পদিপিসীর বর্মিবাক্স
২। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাস
৩। পদিপিসীর বর্মিবাক্স pdf
৪। পদিপিসীর বর্মিবাক্স উপন্যাসের পিডিএফ বই
৫। পদিপিসীর বর্মিবাক্স ebook
৬। পদিপিসীর বর্মিবাক্স সারাংশ
৭। পদিপিসীর বর্মিবাক্স লীলা মজুমদার
৮। Podi Pishir Barmi Baksho Pdf download
৯। পদিপিসীর বর্মিবাক্স বিষয়বস্তু
১০। পদিপিসীর বর্মিবাক্স নামকরণের সার্থকতা
আপনাদের সুবিধার্থে পিডিএফ এর লিংক নিচে দেওয়া হলো
Download PDF file 👇
File details:
File name: Podi Pishir Barmi Baksho eBook.
File type: PDF.
File size: 795.4 KB.
Location: My drive.
Total Pages: 28.



Thank you
ReplyDelete